উত্তর সাগরের ব্যবসা বিক্রির ঘোষণা বিপির

৬০ বছরের কার্যক্রমের অবসান

উত্তর সাগরে পরিচালিত নিজেদের জ্বালানি ব্যবসা বিক্রি করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বহুজাতিক জ্বালানি সংস্থা বিপি।

এর মাধ্যমে এ অঞ্চলে কোম্পানিটির টানা ৬০ বছরের তেল ও গ্যাস উত্তোলনের ইতি ঘটতে যাচ্ছে। নিজেদের মূল ব্যবসা ছোট করা ও উচ্চ মুনাফাভিত্তিক সুযোগগুলোয় নজর দেয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানায় বিপি। খবর বিবিসি।

বিপি যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বহুজাতিক তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি। এটি আগে ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম নামে পরিচিত ছিল। বর্তমানে উত্তর সাগরে বিপির পাঁচটি উৎপাদন হাব রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মধ্য উত্তর সাগরে ও তিনটি শেটল্যান্ডের পশ্চিমে অবস্থিত। এসব প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার ১০০ কর্মী নিয়োজিত আছেন।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর সাগরের ব্যবসা বিক্রি করে বিপির সম্ভাব্য ২০০ কোটি পাউন্ড আয় হতে পারে।

বিপির উত্তর সাগরীয় প্রকল্প থেকে ২০২৫ সালে প্রতিদিন ১ লাখ ১৭ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উৎপাদন হয়। এটি কোম্পানিটির দৈনন্দিন বৈশ্বিক মোট উৎপাদন ২৩ লাখ ব্যারেলের তুলনায় খুবই সামান্য।

গত এপ্রিলে বিপির নতুন প্রধান নির্বাহী (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব নেন মেগ ও’নিল। তিনি বলেন, ‘ব্যবসাকে নতুন করে সাজানো ও সর্বোচ্চ সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোয় মূলধন বিনিয়োগ করাই মূল লক্ষ্য। আমরা মনে করি, অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীনে উত্তর সাগরের ব্যবসাটি আরো ভালো অবস্থানে থাকবে।’

এদিকে উত্তর সাগরে খনিজ তেল উত্তোলনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আলোচনা জমে উঠেছে। সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। ফলে উত্তর সাগরে নতুন করে ড্রিলিং বা কূপ খননের দাবি জোরালো হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ট্রেড ইউনিয়ন ও কিছু আইন প্রণেতা নতুন ড্রিলিংয়ের পক্ষে মতামত দিয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জানান, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার সময় উত্তর সাগরের জ্বালানি বিষয়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেছেন।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের এনার্জি সেক্রেটারি মিয়াটা ফাহনবুলে জানান, তিনি বিপির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। বিক্রি প্রক্রিয়ার সময় কর্মী ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের স্বার্থ সুরক্ষা করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

তবে এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে স্কটল্যান্ডে কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্কটল্যান্ডের জ্বালানিমন্ত্রী স্টিফেন গেথিন্স বলেন, ‘উত্তর সাগরের শক্তি উৎপাদন ও দক্ষ কর্মীদের ওপর দেশের সমৃদ্ধি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নির্ভর করছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানি সংকটের ভারসাম্য বজায় রাখতে যুক্তরাজ্য সরকারের অতিরিক্ত করনীতি এবং নীতিগত সিদ্ধান্তে স্পষ্টতার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

আরও